ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
রামরি শহর পুনর্দখলে গিয়ে মিয়ানমারের ৮০ সেনা নিহত ॥ শান রাজ্যে জান্তার হামলায় নিহত অন্তত ৪০ ॥ রাখাইনের আরও ৬৪ মুসলিম তরুণকে ধরে নিয়ে গেছে জান্তা বাহিনী

সাগাইন দখলের পর পুরো শহর জ্বালিয়ে দিলো মিয়ানমারের জান্তা সেনারা

  • আপলোড সময় : ২৯-০২-২০২৪ ০৭:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০২-২০২৪ ০৭:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন
সাগাইন দখলের পর পুরো শহর জ্বালিয়ে দিলো মিয়ানমারের জান্তা সেনারা সাগাইন দখলের পর পুরো শহর জ্বালিয়ে দিলো মিয়ানমারের জান্তা সেনারা
মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে। রামরি শহর, শান রাজ্য ও রাখাইনের বিভিন্ন শহর পুনর্দখলে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের সেনা বাহিনী চেষ্টা করলে শুরু হয় বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ। মিয়ানমারের সাগাইন অঞ্চল দখলের পর প্রায় পুরো একটি শহর জ্বালিয়ে দিয়েছে জান্তা বাহিনী। সপ্তাহ দুয়েক আগে কাউলিন নামের ওই শহরটি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে দখল করে নেয় জান্তা সেনারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের প্রায় ৮০ শতাংশই জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। রাখাইনের উপকূলীয় শহর রামরি পুনর্দখলে আকাশপথে আসা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৮০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। তাদের দাবি, তিন দিনের যুদ্ধে ওই সেনারা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় শান রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা ও কামানের গোলার আঘাতে অন্তত ৪০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত মাসে রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী পা-ও ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (পিএনএলএ) সাথে সংঘর্ষের মাঝে জান্তার হামলায় ওই বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে জোর করে নাম লেখাতে আরও ৬৪ মুসলিম তরুণকে ধরে নিয়ে গেছে জান্তা সরকার। রাখাইন রাজ্যের বুথিডাং শহর থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। 
জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। কিন্তু গত মাস থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং অভ্যুত্থানবিরোধী যোদ্ধাদের সঙ্গে একের পর এক যুদ্ধে তাদের পরাজিত হতে দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে জান্তা সরকার। সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সাগাইন শহরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গেছে। এর আগে, গত বছরের নভেম্বরের ৬ তারিখে জাতীয় ঐক্যের সরকারের সশস্ত্র বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্স ওই শহর দখল করে নেয়। পরে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জান্তা বাহিনী শহরটি পুনর্দখল করে। শহরটির ৮টি ওয়ার্ডে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া এর আশপাশের আরও ১০টি গ্রামেও আগুন দিয়েছে জান্তা সেনারা। এ বিষয়ে কাউলিন শহরের পিডিএফ বাহিনীর এক সদস্য ইরাবতীকে বলেছেন, কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই ঘটনার দিন ইন বোকে গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। কাউলিন দখল করার পর থেকে শহরের বড় বড় দালানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জান্তা বাহিনী এবং তাদের দৃষ্টিসীমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন সব স্থাপনা তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। অগ্নিসংযোগের কারণে কাউলিন শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোর অন্তত ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় শান রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা ও কামানের গোলার আঘাতে অন্তত ৪০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত মাসে রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী পা-ও ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (পিএনএলএ) সাথে সংঘর্ষের মাঝে জান্তার হামলায় ওই বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে। গত মঙ্গলবার থাইল্যান্ড-ভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পা-ও ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (পিওয়াইও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শান রাজ্যের হিসেং, লোইলেন এবং হপং শহরে হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে মিয়ানমার জান্তা। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এই রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত পা-ও অঞ্চলে জান্তা সৈন্য ও তাদের সহযোগী পা-ও ন্যাশনাল আর্মির (পিএনএ) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে পিএনএলএ। ২০১৫ সালে মিয়ানমারের জাতীয় অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পিএনএর যোদ্ধাদের সাথে গত ২০ জানুয়ারি পা-ও অঞ্চলের স্যাম এইচপু গ্রামে জান্তা সৈন্যদের সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই সময় জান্তা বাহিনী ও পিএনএ সৈন্যরা পিএনএলএর যোদ্ধাদের বহরকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ২৪ জানুয়ারি জান্তা-নিয়ন্ত্রিত হিসেংয়ে হামলা চালিয়ে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও প্রশাসনিক বিভাগসহ শহরের বেশিরভাগ এলাকার দখল নেয় পিএনএলএর যোদ্ধারা। পা-ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলজুড়ে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করছে জান্তা বাহিনী। পুরো এলাকায় এখনও পিএনএলএর যোদ্ধাদের সাথে জান্তা সৈন্য ও তাদের মিত্রদের সংঘর্ষ চলছে। পিওয়াইও বলেছে, স্বায়ত্তশাসিত পা-ও অঞ্চলে জান্তা বাহিনী এখন পর্যন্ত ২৯৩ বার বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি ৮০৮টি কামানের গোলা ছুড়েছে। জান্তা সৈন্যদের নির্বিচার হামলায় ওই এলাকায় অন্তত ৪০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামরায় পা-ও অঞ্চলে ৯৭টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। দ্য ইরাবতিকে পিওয়াইওর মুখপাত্র মা লি লি বলেছেন, নিহতদের মধ্যে দুই কিশোর ও তিন কন্যা শিশু রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। জান্তার হামলায় সেখানে ৯৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্তত এক ডজন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী বলছে, আরাকান আর্মির সদস্যদের ঠেকাতে গত শনিবার চারটি হেলিকপ্টারে করে রামরি শহরে পাঠানো হয়েছিল ১২০ জন সেনাকে। ওই সেনা সদস্যরা আইয়ারওয়দি অঞ্চলের কিউনপও শহরের ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৬ এবং রাখাইনের আন শহরের লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৭৩-এ কর্মরত ছিলেন। আরাকান আর্মির দাবি, শনিবারের যুদ্ধে জান্তা সেনাদের মধ্যে ৬০ জন নিহত হয়। আর সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পালানোর সময় নিহত হন আরও ২০ জন। এদিকে মিয়ানমারের উত্তর শান রাজ্যের ৭টি শহরে আগামী বছরের মধ্যে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট (পিএসএলএফ)। ইরাবতী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএসএলএফ হলো তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) রাজনৈতিক শাখা। ১৯৯২ সালে থাইল্যান্ড সীমান্তে গঠিত হয় গোষ্ঠীটি।  টিএনএলএ দেশটির ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য। জোটটির অন্যতম সদস্য মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এবং আরাকান আর্মি। গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে উত্তর শান রাজ্য থেকে তাদের তৎপরতা শুরু করে জোটটি। তাদের হাতে এখন পর্যন্ত জান্তার ২০টি শহর ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের পতন হয়েছে।
এছাড়াও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে জোর করে নাম লেখাতে আরও ৬৪ মুসলিম তরুণকে ধরে নিয়ে গেছে জান্তা সরকার। রাখাইন রাজ্যের বুথিডাং শহর থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। গত মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নারিনজারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তাদের আটক করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ সময় ওহ থেল মা মুসলিম গ্রাম থেকে জোর করে ১২ জনকে আটক করা হয়। ২ জনকে মিয়াউং নার মুসলিম গ্রাম, আহ লেল ছাউং মুসলিম গ্রাম থেকে ৩০ জনকে এবং কা কিয়া বাত মুসলিম গ্রাম থেকে ২০ জনকে আটক করে তারা।  
এর আগে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ৩৫৩, ৫৩৫, ৩৫২তম এবং ৩৪৫তম পদাতিক ব্যাটালিয়নের সৈন্যরা, ১৫ সামরিক অপারেশন কমান্ডের (এমওসি-১৫) অধীনে বিভিন্ন মুসলিম গ্রাম থেকে শতাধিক মুসলিম তরুণকে ধরে নিয়ে যায়।  সামরিক সূত্র জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই আটক হওয়ার ভয়ে প্রশিক্ষণ শেষ না করেই পালিয়ে গেছেন। গ্রামের একজন মুসলিম প্রবীণ ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে অনেক যুদ্ধে পরাজয়ের পর জান্তা বাহিনী সামরিক বাহিনীতে নাম লেখাতে মুসলমান তরুণদের অপহরণ করতে শুরু করে। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং বৌদ্ধ রাখাইন এবং মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি উসকে দেয়ার ষড়যন্ত্র বলেও দাবি তার। ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রামের মুসলিম পন্ডিতদের সঙ্গে পুলিশের এক বৈঠকে জান্তা সরকারকে সগযোহিতা করার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় মুসলিমদের অস্ত্র সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়। যাতে তারা রাখাইনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। মুসলিমদের দাবি, জান্তা সরকার তরুণদের অপহরণ করছে জোর করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করার জন্য।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স